পৃথিবী প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,৬৭০ কিলোমিটার (নিরক্ষীয় অঞ্চলে) বেগে নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরছে। কিন্তু আমরা এই গতি অনুভব করি না বা স্থির থাকি বলে মনে করি। science বলে এর পেছনে মূল কারণ হলো আপেক্ষিক গতি এবং মহাকর্ষ বলের প্রভাব।
১. জড়তার নিয়ম (নিউটনের প্রথম সূত্র)
- জড়তা হলো বস্তুর নিজের গতির অবস্থা বজায় রাখার প্রবণতা। নিউটনের প্রথম সূত্র অনুযায়ী, যদি কোনো বস্তু সমবেগে গতিশীল থাকে এবং কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, তবে তা গতিশীলই থাকবে।
- পৃথিবী ও এর বায়ুমণ্ডল একই গতিতে ঘূর্ণনের কারণে আমরা এর গতি অনুভব করি না। যেমন: একটি গাড়ি যদি সমবেগে চলে, তবে যাত্রীরা গতি টের পায় না, কিন্তু গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করলে জড়তার কারণে সামনে ঝুঁকে পড়ে।
২. মহাকর্ষ ও কেন্দ্রবিমুখী বলের ভারসাম্য
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল আমাদেরকে তার কেন্দ্রের দিকে টানে, কিন্তু ঘূর্ণনের কারণে একটি কেন্দ্রবিমুখী বল (Centrifugal Force) সৃষ্টি হয় যা বাইরের দিকে কাজ করে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে কেন্দ্রবিমুখী বল সর্বোচ্চ, কিন্তু তা পৃথিবীর মহাকর্ষের তুলনায় নগণ্য (মাত্র ~০.৩%)। তাই আমরা মহাকর্ষের টানেই স্থির থাকি।
৩. ধ্রুব গতি ও ত্বরণের অভাব
- আমরা পৃথিবীর গতি টের পাই না কারণ এটি একটি ধ্রুব কৌণিক বেগে (Constant Angular Velocity) ঘুরছে। ত্বরণ না থাকলে গতি অনুভূত হয় না।
- যদি পৃথিবী হঠাৎ থেমে যেত, তাহলে জড়তার কারণে আমরা পূর্বের গতিতে (১,৬৭০ কিমি/ঘণ্টা) ছিটকে যেতাম!
৪. বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশের সমন্বিত গতি
- পৃথিবীর সাথে এর বায়ুমণ্ডলও একই গতিতে ঘুরছে। যদি বায়ুমণ্ডল স্থির থাকত, তাহলে আমরা প্রবল বাতাস (প্রায় ১,৬৭০ কিমি/ঘণ্টা!) অনুভব করতাম।
- উদাহরণ: একটি উড়ন্ত বিমানও পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি বজায় রাখে, তাই আমরা অতিরিক্ত গতি পাই না।
৫. আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (আইনস্টাইনের দৃষ্টিকোণ)
- আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে, গতি শুধুমাত্র অন্য বস্তুর সাপেক্ষেই পরিমাপযোগ্য। যেহেতু আমাদের চারপাশের সবকিছু (পাহাড়, বাড়ি, বাতাস) একই গতিতে ঘুরছে, তাই আমরা “স্থির” বলে মনে করি।
কেন আমরা পৃথিবীর ঘূর্ণন দেখতে পাই না?
- পৃথিবী খুব বড় (পরিধি ~৪০,০৭৫ কিমি) এবং এটি ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘুরে, তাই কৌণিক বেগ কম (~০.০০৪২ ডিগ্রি/সেকেন্ড)। এত ধীর গতি আমাদের চোখে ধরা পড়ে না।
পৃথিবীর ঘূর্ণন আমরা অনুভব করি না কারণ:
- জড়তার নিয়মে আমরা গতির সাথে অভ্যস্ত।
- মহাকর্ষ বল আমাদেরকে পৃথিবীর সাথে বাঁধে।
- বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশ একই গতিতে চলমান।
- ঘূর্ণনের গতি ধ্রুব এবং ত্বরণহীন।
এটি বিজ্ঞানের একটি চমৎকার উদাহরণ যা দেখায় যে আমাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা প্রকৃতির গভীর নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত!
নতুন প্রতারণার ফাঁদ Call margin