School banking চালু করার নির্দেশনা দিয়েছে Bangladesh Bank

school banking

বাংলাদেশ ব্যাংক School banking চালু করার নির্দেশনা দিয়েছে, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (financial inclusion) বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতা (financial literacy) বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং সেবার সাথে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যতে আর্থিক সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

১. স্কুল ব্যাংকিং কী?

School banking হলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা একটি ব্যাংকিং সেবা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সঞ্চয় করতে পারে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তারা ছোট বয়স থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে এবং ব্যাংকিং সিস্টেমের সাথে পরিচিত হতে পারে।

২. School banking চালুর উদ্দেশ্য

  • আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের আর্থিক বিষয়ে সচেতন করে তোলা এবং ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।
  • সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা: শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোট বয়স থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা।
  • আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরও ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা।
  • ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।

৩. স্কুল ব্যাংকিংয়ের বৈশিষ্ট্য

  • কম বয়সে অ্যাকাউন্ট খোলা: সাধারণত ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে।
  • সহজ শর্ত: School banking অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সহজ এবং ন্যূনতম কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়।
  • কম ব্যালেন্স: অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ন্যূনতম ব্যালেন্সের প্রয়োজন হয় না বা খুব কম ব্যালেন্স রাখা যায়।
  • সুদের হার: School banking অ্যাকাউন্টে সাধারণ সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টের চেয়ে বেশি সুদ দেওয়া হতে পারে।
  • অভিভাবকের অনুমোদন: শিক্ষার্থীরা অভিভাবকের অনুমোদনে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে।

৪. School banking চালু করার নির্দেশনা

Bangladesh Bank স্কুল ব্যাংকিং চালু করার জন্য ব্যাংকগুলোকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট: ব্যাংকগুলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ধরনের অ্যাকাউন্ট চালু করতে হবে।
  • সচেতনতা কার্যক্রম: শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্কুল ব্যাংকিং সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
  • সহজ প্রক্রিয়া: অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে হবে।
  • ডিজিটাল সেবা: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্কুল ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন:

Gold দাম Global market কেন লাফিয়ে বাড়ছে,

Small business loan কি, কেন, কিভাবে পাওয়া যাবে

Personal Loan Calculate কীভাবে করবেন

৫. স্কুল ব্যাংকিংয়ের সুবিধা

  • আর্থিক শিক্ষা: শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং সিস্টেম সম্পর্কে জানতে পারে এবং আর্থিক সাক্ষরতা অর্জন করে।
  • সঞ্চয়ের অভ্যাস: ছোট বয়স থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে ওঠে।
  • ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়: শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যতের প্রয়োজনের জন্য সঞ্চয় করতে পারে।
  • সুবিধাজনক সেবা: স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম শর্তে সেবা পাওয়া যায়।

৬. চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

  • সচেতনতার অভাব: অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী স্কুল ব্যাংকিং সম্পর্কে জানেন না। এ জন্য ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।
  • ডিজিটাল বিভাজন: প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল সেবার অপ্রতুলতা থাকতে পারে। এ জন্য ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার প্রসার ঘটানো দরকার।
  • অভিভাবকের অনীহা: কিছু অভিভাবক শিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে।

৭. ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে আর্থিকভাবে সচেতন করে তোলা সম্ভব। এটি ভবিষ্যতে দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের সাথে সাথে স্কুল ব্যাংকিংও আরও সহজ ও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের School banking চালুর নির্দেশনা দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সাক্ষরতা ও সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগ সফল করতে সরকার, ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *