Gold দাম Global market কেন লাফিয়ে বাড়ছে, নেপথ্যে কী?

Gold

২২ ক্যারেট Gold হলো সোনার একটি বিশুদ্ধতা স্তর, যা মূলত গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি সোনার বিশুদ্ধতা ও মূল্য নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

২২ ক্যারেট সোনা কী?

  • ক্যারেটের সংজ্ঞা: Gold বিশুদ্ধতা পরিমাপের একক হলো ক্যারেট (Karat)। ২৪ ক্যারেট সোনা হলো ১০০% বিশুদ্ধ Gold। ২২ ক্যারেট সোনা মানে এতে ৯১.৬৭% সোনা এবং বাকি ৮.৩৩% অন্যান্য ধাতু (যেমন: তামা, রূপা, দস্তা) মিশ্রিত থাকে।
  • গহনায় ব্যবহার: ২৪ ক্যারেট সোনা খুব নরম হওয়ায় গহনা তৈরিতে এটি ব্যবহার করা কঠিন। তাই গহনা তৈরিতে ২২ ক্যারেট সোনা বেশি পছন্দ করা হয়, কারণ এটি টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী।

২২ ক্যারেট Gold বৈশিষ্ট্য

১. বিশুদ্ধতা: ২২ ক্যারেট সোনায় ৯১.৬৭% বিশুদ্ধ সোনা থাকে, যা এটিকে উচ্চমানের এবং মূল্যবান করে তোলে।
২. টেকসই: অন্যান্য ধাতুর সংমিশ্রণের কারণে ২২ ক্যারেট সোনা বেশি শক্তিশালী এবং গহনা তৈরির জন্য উপযুক্ত।
৩. রঙ: ২২ ক্যারেট সোনার রঙ উজ্জ্বল হলুদ, যা এটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
৪. মূল্য: ২৪ ক্যারেট সোনার চেয়ে কিছুটা কম বিশুদ্ধ হলেও ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য এখনও অনেক বেশি।

২২ ক্যারেট Gold ব্যবহার

গহনা তৈরিতে: ২২ ক্যারেট সোনা গহনা তৈরির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং সহজে বিকৃত হয় না।
বিনিয়োগ: অনেক দেশে (বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য) ২২ ক্যারেট সোনা বিনিয়োগের জন্য কেনা হয়।
সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান: বিবাহ, উৎসব, এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ২২ ক্যারেট সোনার গহনা পরিধান করা হয়।
উপহার: বিশেষ উপলক্ষে ২২ ক্যারেট সোনার গহনা উপহার দেওয়া হয়।

২২ ক্যারেট Gold গুরুত্ব

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: সোনা একটি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম। ২২ ক্যারেট সোনা ক্রয় করে মানুষ তাদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখে।
সাংস্কৃতিক মূল্য: দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে সোনার গহনা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গুরুত্ব বহন করে। ২২ ক্যারেট সোনা এই অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মুদ্রাস্ফীতি থেকে সুরক্ষা: মুদ্রাস্ফীতির সময় সোনার মূল্য সাধারণত বাড়ে, তাই ২২ ক্যারেট সোনা ক্রয় করে মানুষ মুদ্রাস্ফীতি থেকে সুরক্ষা পায়।

২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণের কারণ

বিশুদ্ধতা: ২২ ক্যারেট সোনার দাম এর বিশুদ্ধতার উপর নির্ভর করে। যত বেশি বিশুদ্ধ, দাম তত বেশি।
বৈশ্বিক বাজার: সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভরশীল। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (LBMA) সোনার দাম নির্ধারণ করে।
স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ: বাংলাদেশ, ভারতের মতো দেশে সোনার চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বাড়ে।
আমদানি শুল্ক ও কর: সরকার সোনার আমদানিতে শুল্ক ও কর বৃদ্ধি করলে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ে।

২২ ক্যারেট সোনা vs ২৪ ক্যারেট সোনা

বৈশিষ্ট্য২২ ক্যারেট সোনা২৪ ক্যারেট সোনা
বিশুদ্ধতা৯১.৬৭% সোনা১০০% সোনা
ব্যবহারগহনা তৈরিতে বেশি ব্যবহৃতবিনিয়োগ ও বার তৈরিতে ব্যবহৃত
টেকসইবেশি টেকসইকম টেকসই
মূল্যকিছুটা কমসর্বোচ্চ

২২ ক্যারেট সোনা গহনা তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং জনপ্রিয়। এর বিশুদ্ধতা, টেকসই বৈশিষ্ট্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এটিকে বিশেষ করে তোলে। বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে ২২ ক্যারেট সোনার চাহিদা ও মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি শুধু গহনা নয়, বরং একটি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত।

Gold (সোনা) দাম বাড়ার কারণ

Gold দাম বৈশ্বিক বাজারে হঠাৎ করে লাফিয়ে বাড়ার পেছনে বেশ কিছু জটিল ও আন্তঃসম্পর্কিত কারণ রয়েছে। এই বৃদ্ধির নেপথ্যে মূলত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, এবং বাজারের মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো কাজ করছে।

১. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা

  • মহামারির প্রভাব: কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও অনেক দেশ এখনও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অনিশ্চয়তা ও মন্দার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
  • মুদ্রাস্ফীতি: বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে। মুদ্রাস্ফীতির সময় সোনা একটি নিরাপদ হেফাজত হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এর মূল্য সাধারণত স্থিতিশীল থাকে বা বাড়ে।

২. বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা

  • যুদ্ধ সংঘাত: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন, কারণ এটি একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সম্পদ।
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত এবং অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা সোনার চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে।

৩. মুদ্রানীতি সুদের হার

  • সুদের হার হ্রাস: অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উদ্দীপিত করতে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে। সুদের হার কমলে সোনার মতো সম্পদের চাহিদা বাড়ে, কারণ এটি মুদ্রাস্ফীতি থেকে সুরক্ষা দেয়।
  • ডলারের দুর্বলতা: সোনার দাম সাধারণত মার্কিন ডলারের বিপরীতে নির্ধারিত হয়। ডলার দুর্বল হলে সোনার দাম বাড়ে, কারণ এটি আন্তর্জাতিক বাজারে সস্তা হয়ে যায়।

৪. চাহিদা সরবরাহ

  • চাহিদা বৃদ্ধি: বিশেষ করে ভারত ও চীনের মতো দেশে সোনার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দেশগুলোতে সোনা বিবাহ, উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
  • সরবরাহ সীমিত: সোনার খনি থেকে উৎপাদন সীমিত এবং নতুন খনির সন্ধান ও উৎপাদন ব্যয়বহুল। এর ফলে সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৫. বিনিয়োগকারীদের মনোভাব

  • নিরাপদ বিনিয়োগ: সোনা ঐতিহাসিকভাবে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত। শেয়ার বাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগ মাধ্যমের তুলনায় সোনার মূল্য স্থিতিশীল থাকে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকটের সময়।
  • সোনার ETF অন্যান্য বিনিয়োগ পণ্য: সোনার ETF (Exchange-Traded Funds) এবং অন্যান্য বিনিয়োগ পণ্যের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সহজেই সোনায় বিনিয়োগ করতে পারছেন, যা সোনার চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে।

৬. বৈশ্বিক শেয়ার বাজারের অস্থিরতা

  • শেয়ার বাজারের পতন: বৈশ্বিক শেয়ার বাজারগুলোর অস্থিরতা ও পতনের সময় বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ান। এটি সোনার চাহিদা ও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুন:

Small business loan কি, কেন, কিভাবে পাওয়া যাবে

Personal Loan Calculate কীভাবে করবেন

অনলাইনে কীভাবে Invest করবেন

বাংলাদেশ থেকে United States পোশাক রপ্তানি বেড়েছে

৭. কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয়

  • রিজার্ভ হিসেবে সোনা: বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন রাশিয়া, চীন, ভারত) তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অংশ হিসেবে সোনা ক্রয় বাড়িয়েছে। এটি সোনার চাহিদা ও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

৮. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট

  • জ্বালানি দাম বৃদ্ধি: জ্বালানি দাম বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়, যা সোনার চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। জ্বালানি সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকেন।

৯. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: বাংলাদেশে সোনার দাম বৈশ্বিক বাজার ও স্থানীয় চাহিদার উপর নির্ভর করে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেলে বা আমদানি ব্যয় বাড়লে সোনার দাম বৃদ্ধি পায়।
  • আমদানি শুল্ক: সরকার সোনার আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করলে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বাড়ে।

Gold দাম বৈশ্বিক বাজারে লাফিয়ে বাড়ার পেছনে মূলত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রানীতি, চাহিদা ও সরবরাহের তারতম্য এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাব দায়ী। এই কারণগুলো একত্রিত হয়ে সোনার দামকে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি করছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সোনার দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

4 thoughts on “Gold দাম Global market কেন লাফিয়ে বাড়ছে, নেপথ্যে কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *